প্রচ্ছদ > জাতীয় >

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করছে সরকার

article-img

ফ্যাসিবাদী শাসনের রেখে যাওয়া ‘জঞ্জাল’ আর ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো সামলে ছয় মাস পার করেছে বিএনপি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনকল্যাণে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষমতাসীন দলটির। এর মধ্যে রয়েছে-কৃষক, ফ্যামিলি ও প্রবাসী কার্ড, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, আর্থিক খাত সংস্কার, যানজট নিরসনে এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নতুন পে-স্কেলের মতো উদ্যোগ। সরকারের দাবি, ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্র এখন পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে রয়েছে।

দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমনটাই জানান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সরকারের গত ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার অন্তহীন পথে চলছে দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। সরকারের এই ১৮০ দিনের পথচলা জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ভোট গ্রহণের পরপরই সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার আলোকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষক পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা এবং দেশজুড়ে খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সংসদে রেকর্ডসংখ্যক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগসহ ক্রীড়া ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ২০০টি ইলেকট্রিক বাস এবং এআই ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন মাহ্দী আমিন। তবে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা রয়েছে।

এ সময় জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগ্গিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা।

প্রশ্নোত্তরপর্বে দেশের চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংকটের কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এজন্য সরকার দুঃখিত। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় বড় যেসব সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে, সেগুলোর সমাধানে যতটুকু সম্ভব কাজ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় তা হয়তো যথেষ্ট নয়, তবে একেবারে কমও নয়।

বিদেশে গ্রেফতার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তার নানা অপকর্মের তথ্য গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। তিনি একজন আসামি এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি ভঙ্গুর অবস্থা, অরাজকতা, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার রাজনৈতিক নৈরাজ্যের উত্তরাধিকারের (লিগ্যাসি) ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট এবং মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতির রূপকথার গল্প সৃষ্টি হলেও বর্তমান সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার পরিচালনা করছেন। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহির দায় রয়েছে।

গণমাধ্যম কমিশন গঠন নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করে এনেছি। এখন আমরা একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করব। তারা একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’-এর খসড়া তৈরি করবেন। তারপর আমরা এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করব। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজ এগিয়ে চলছে।

এদিকে দেশে ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।